ঢাকা লেডিস ক্লাবের আসন্ন দ্বিবার্ষিক নির্বাহী কমিটি নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি আশঙ্কা

ঢাকা লেডিস ক্লাবের আসন্ন দ্বিবার্ষিক নির্বাহী কমিটি নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি আশঙ্কা

আগামী ২৪ জানুয়ারি শুক্রবার ঐতিহ্যবাহী ঢাকা লেডিস ক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারে নির্বাচনে দুটি প্যানেলে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। দুরাফসান হক-শিরিন এবং আনিসা হক-রোকসান প্যানেলে। এছাড়া কয়েকজন সতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন।

আনিসা হক সদ্য মেয়াদ শেষ করা নির্বাহী কমিটির সভাপতি ছিলেন। তিনি কমিটির সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে একক সিদ্ধান্তে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দিয়েছেন। যিনি তার খুবই ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। আনিসা হকের বিরুদ্ধে বরাবরই স্বৈরাচারি কায়দায় ক্লাব পরিচালনার অভিযোগ করে আসছিলেন নির্বাহী কমিটির অধিকাংশ সদস্য।

২০২২ সালের মে মাসে দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। কিন্তু ২০২৪ এর মে মাসে নির্বাচন না দিয়ে কোরাম পূর্ণ না হওয়া ইজিএম এ জানিয়ে দেন যে কমিটির মেয়াদ আরও ছয় মাস বেশি করা হলো। এমনকি ২০২৪ সালে তিনি কোন এজিএম হতে দেন নাই, যে কারণে সাধারণ সদস্যদের প্রতিবাদ করার সুযোগ ছিল না। তিনি সব সময় বলেন যে, আমি যা বলব তাই হবে। অথচ গঠনতন্ত্রে সুষ্পষ্টভাবে বলা আছে, ক্লাব পরিচালিত হবে নির্বাহী কমিটির সকল সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে।

তার এই স্বৈরাচারি মনোভাব আসন্ন নির্বাচনেও দেখা যাচ্ছে। তার বান্ধবী প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে তার ইচ্ছা পূরণে নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। অধিকাংশ কমিশনার, রিটানিং অফিসার, সহকারী রিটানিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার তার নিজস্ব লোক। তার বিশেষ প্রিয়পাত্র দুজন অফিস স্টাফকে কমিশনদের কাজে নিযুক্তি দিয়েছেন। এভাবে পরোক্ষভাবে আনিসা হক পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। ফলে, নির্বাচনে নিরপেক্ষতা নিয়ে ক্যাšিডডেটরা খুবই চিন্তিত।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে আপত্তি না জানিয়ে লাভ হয়নি। কারণ তিনি নিজেও প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, আমি একাই সব কাজ করি। করব।
এমতাবস্থায়, নির্বাচনে নিরপেক্ষতা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন স্বতন্ত্র এবং দুরাফসান প্যানেলের প্রার্থীরা এবং সাধারণ ভোটাররা।
৭০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা লেডিস ক্লাবে এখন শুধু গৃহিনীরাই নন, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুনামের সাথে কর্মরত নারীরাও এই ক্লাবের সদস্য। সদস্য সংখ্যা ৯২৬ জন। ক্লাব পরিচালনায় দরকার দক্ষ ও সৎ পরিচালনা পর্ষদ। অথচ ক্লাবের কোটি টাকা আত্মসাৎকারী আদালতে বিচারাধীন বিবাদিকে আনিসা হক তার প্যানেলে কোষাধ্যক্ষ পদে মনোনয়ন দিয়েছেন। যে করেই হোক আনিসা হকগং নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে চাচ্ছেন, এই মহিলার বিরুদ্ধে চলমান মামলা ডিসমিস করতে।

এছাড়া একজন অন্ধ প্রেসিডেন্ট আনিসা হককে সামনে রেখে ক্লাবে একটি গ্রুপ লুটপাটের উদ্দেশ্যে নির্বাচন করছেন বলে সদস‍্যদের অভিমত ।